নির্ধারিত সময়ের আগেই বেতন কমিশনের প্রতিবেদন জমা; সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
- আপডেট সময় : ০৪:০৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
নির্ধারিত সময়ের আগেই বেতন কমিশনের প্রতিবেদন জমা; সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
ছামিউল ইসলাম রিপন (বিশেষ প্রতিনিধি) :
নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই নবম জাতীয় বেতন কমিশন তাদের বহুল আলোচিত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করেছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিশন নতুন ২০ গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামোসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সার্বিক সুপারিশ উপস্থাপন করে। প্রতিবেদন গ্রহণের সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন সদস্যরা।
বেতন কাঠামোর মূল প্রস্তাব
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। বিদ্যমান কাঠামোর তুলনায় এটি ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্রগুলো জানায়, বেতন ধাপের সংখ্যা অপরিবর্তিত রেখে ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডে মূল বেতন ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যৌক্তিকভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং বর্তমান আর্থসামাজিক বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়।
ভাতা ও সুবিধা পুনর্বিন্যাস
বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কমিশন শুধু মূল বেতন নয়, বরং বিদ্যমান ভাতা কাঠামো নিয়েও সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
বাড়িভাড়া ভাতা পুনর্গঠন
চিকিৎসা ভাতা যৌক্তিক বৃদ্ধি
যাতায়াত ও উৎসব ভাতা পুনর্বিবেচনা
নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ
কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, বেতন বৃদ্ধির সুফল যেন কেবল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে জন্য নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আগেই প্রতিবেদন, ব্যয়ও কম
সরকার ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে এবং ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কমিশনের নির্ধারিত শেষ সময় ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। কিন্তু তারা প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই কাজ শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে সক্ষম হয়।
আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কমিশন তাদের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটের মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যয় করেই এই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে। প্রশাসনিক দক্ষতা, আর্থিক সাশ্রয় ও সময়ানুবর্তিতার দৃষ্টান্ত হিসেবে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
বাস্তবায়ন হলে কী বদলাবে
অর্থনীতি বিশ্লেষক ও প্রশাসনিক সূত্রগুলোর মতে, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরির প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়বে এবং দক্ষ জনবল ধরে রাখা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় কত হবে এবং তা জাতীয় বাজেটে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ ১২ বছর পর গঠিত নবম জাতীয় বেতন কমিশনের এই প্রতিবেদন সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। এখন সবার দৃষ্টি সরকারের সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের সময়সূচির দিকে।













