নিজ জেলায় বদলি ও স্পাউজ কোটা যুক্ত হচ্ছে এমপিও শিক্ষকদের বদলিতে
- আপডেট সময় : ০৬:৩৩:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
নিজ জেলায় বদলি ও স্পাউজ কোটা যুক্ত হচ্ছে এমপিও শিক্ষকদের বদলিতে
ছামিউল ইসলাম রিপন (বিশেষ প্রতিনিধি):
দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশোধিত নীতিমালায় শিক্ষকদের নিজ জেলায় বদলির সুযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলকে ভিত্তি করে বদলির (স্পাউজ কোটা) বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যা নারী ও পুরুষ—উভয় শিক্ষকের জন্যই প্রযোজ্য হবে।
বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, স্পাউজ কোটায় বদলির ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। স্বামী বা স্ত্রীকে অবশ্যই ইনডেক্সধারী হতে হবে এবং সরকারি, আধাসরকারি অথবা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকতে হবে। তবে ব্যাংক, বেসরকারি কোম্পানি কিংবা অন্যান্য প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
এদিকে বহু প্রতীক্ষিত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সফটওয়্যার তৈরির কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার কারিগরি সহায়তাদানকারী প্রতিষ্ঠান টেলিটক লিমিটেড এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মাউশির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন কেবল সংশোধিত নীতিমালার আনুষ্ঠানিক প্রকাশের অপেক্ষা। নীতিমালা প্রকাশিত হলে সফটওয়্যারভিত্তিক বদলি কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।
প্রসঙ্গত, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সর্বজনীন একটি বদলি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয়, যাতে শুধু এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক নয়, সব এমপিওভুক্ত শিক্ষক একই প্ল্যাটফর্মে বদলির আবেদন করতে পারেন। এ লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় সফটওয়্যার তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় টেলিটক লিমিটেডকে।
উল্লেখ্য, এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের আগে সরাসরি বদলির সুযোগ ছিল না। প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির আওতায় ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা সীমিত সুযোগ পেলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে সেই পথ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষকরা আন্দোলনে নামেন।
শিক্ষকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বদলি চালুর উদ্যোগ নিলেও রিট মামলা, সফটওয়্যার প্রস্তুতিতে বিলম্ব এবং নীতিমালা সংশোধনের কারণে তা এতদিন বাস্তবায়ন হয়নি। সংশোধিত নীতিমালা কার্যকর হলে এই দীর্ঘ জটিলতার অবসান ঘটবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

















