নতুন পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার: বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের দ্বিধা
- আপডেট সময় : ০৫:১৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ ১৪৬ বার পড়া হয়েছে
নতুন পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার: বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের দ্বিধা
ছামিউল ইসলাম রিপন (বিশেষ প্রতিনিধি): সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেলে বড় ধরনের বেতন কাঠামোর প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। পে-কমিশনের প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন মূল বেতন দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদন হস্তান্তরের কথা রয়েছে।
কমিশন সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত পে-স্কেল কার্যকর করতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে কর্মরত আছেন আনুমানিক ১৫ লাখ মানুষ। সবশেষ ২০১৫ সালে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো সংশোধন করা হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর, চলতি বছরের জুলাইয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ছয় মাসের সময়সীমা বেঁধে নতুন পে-কমিশন গঠন করে।
প্রতিবেদনে এবার কোনো দর্শনগত পরিবর্তনের সুপারিশ রাখা হয়নি। গ্রেডের সংখ্যাও কমানো হচ্ছে না। তবে দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়কে গুরুত্ব দিয়ে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ এসেছে ২০তম গ্রেডে। এই গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ১৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি। ভাতা যুক্ত হলে একজন কর্মচারীর মোট বেতন দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪২ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, বর্তমানে সর্বোচ্চ মূল বেতন পাওয়া সচিবদের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। নতুন প্রস্তাবে তা ১০৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা যোগ হলে একজন সচিবের মোট মাসিক আয় তিন লাখ টাকা ছাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার জন্য বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা। তবে পে-কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে এই খাতে ব্যয় আরও প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা বাড়বে।
এত বড় অঙ্কের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, এই ব্যয়ের চাপ এবং এর সামগ্রিক প্রভাব মোকাবিলায় জনগণ ও রাষ্ট্র প্রস্তুত কিনা, তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
যদিও পে-কমিশন গঠন করা হয়েছে, বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে অতিরিক্ত প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে নতুন পে-স্কেল সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির বার্তা আনলেও, এর অর্থনৈতিক চাপ ও বাস্তবায়ন নিয়ে সামনে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে সরকার—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।












