Bangladesh ১২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৮ম এনটিআরসিএ ( প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহ- প্রধান) নিয়োগ পরীক্ষার ভাইভা দ্রুত শুরু করার দাবিতে কর্মসূচি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চালু রাখার দাবি জানালো বাবেশিকফো ডিজিটাল যুগে শিক্ষা: অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের বাস্তবতা স্কুল পর্যায়ে অনলাইন ক্লাস কি আদৌ প্রয়োজন? এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের স্বতন্ত্র পে-স্কেল নয়—প্রয়োজন বাস্তবসম্মত ও ন্যায্য সুবিধা। নওগাঁয় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক নওগাঁয় স্ত্রী-সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা নওগাঁয় ইটভাটার ট্রাক্টরের চাকায় পৃষ্ট হয়ে শিক্ষক নিহত নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার এজেন্ট এক কলেজের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট আটক গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল। ২০২৫ সালের অষ্টম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ২৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে।

স্কুল পর্যায়ে অনলাইন ক্লাস কি আদৌ প্রয়োজন?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৩:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬ ১৫৪ বার পড়া হয়েছে

স্কুল পর্যায়ে অনলাইন ক্লাস কি আদৌ প্রয়োজন?
সামিউল ইসলাম :
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্কুল পর্যায়ে অনলাইন ক্লাস কতটা উপযোগী—এই প্রশ্নের উত্তরে সংক্ষেপে বলা যায়, বর্তমান বাস্তবতায় এটি খুব বেশি কার্যকর নয়। বিষয়টি কেবল প্রযুক্তির প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে না; বরং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক নানা দিক এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

প্রথমত, বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখনো ডিজিটাল সুবিধার বাইরে রয়েছে। গ্রামাঞ্চলসহ দেশের বহু অঞ্চলে প্রায় ৮০–৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীর নিজস্ব স্মার্টফোন বা উপযুক্ত ডিভাইস নেই। ফলে অনলাইন ক্লাস চালু করা হলে একটি বড় অংশ স্বাভাবিকভাবেই বঞ্চিত হবে। এতে শিক্ষায় বৈষম্য আরও বৃদ্ধি পাবে, যা একটি ন্যায়ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য মোটেও কাম্য নয়।

দ্বিতীয়ত, যেসব শিক্ষার্থীর হাতে মোবাইল আছে, তাদের ক্ষেত্রেও অনলাইন ক্লাসের সুফল সবসময় পাওয়া যায় না। বাস্তবে দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষামূলক কনটেন্টের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করে টিকটক, ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এর ফলে তারা ধীরে ধীরে মোবাইল আসক্ত হয়ে পড়ছে। রাত জেগে অনলাইন আড্ডা দেওয়া, গেম খেলা বা বিনোদনে সময় কাটানো তাদের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তৃতীয়ত, কিশোর-কিশোরীদের জন্য অনলাইন জগত নানা ঝুঁকিও তৈরি করছে। অনেক সময় তারা অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি শেয়ার করছে। এর ফলে ব্ল্যাকমেইল, হয়রানি বা আর্থিক প্রতারণার মতো ঘটনাও ঘটছে। কিছু ক্ষেত্রে মানসিক চাপে পড়ে তারা ভয়ংকর সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলছে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ প্রবণতা তুলনামূলক বেশি লক্ষ্য করা যায়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

চতুর্থত, করোনা মহামারির সময় আমরা অনলাইন শিক্ষার একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা পেয়েছি। তখন অনেক শিক্ষার্থীর হাতে মোবাইল দেওয়া হলেও তাদের একটি বড় অংশ সেটির সঠিক ব্যবহার করেনি। বরং তারা রাতজাগা অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, দিনের বেলায় ঘুমিয়ে থাকে এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাদের আচরণ ও জীবনযাপনে যে পরিবর্তন দেখা গেছে, তার প্রভাব এখনো অনেক ক্ষেত্রে রয়ে গেছে।

সবশেষে বলা যায়, শুধুমাত্র প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান দিয়ে শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়। বরং শিক্ষার্থীদের বয়স, মানসিকতা ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জরুরি। অনলাইন ক্লাসকে পুরোপুরি বাতিল না করে এটি সহায়ক পদ্ধতি হিসেবে সীমিতভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে সরাসরি শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষাই অধিক কার্যকর।

অতএব, সরকারকে এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকে।

সামিউল ইসলাম
সহকারী শিক্ষক
হালিমুন্নেছা চৌধুরানী মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ভালুকা, ময়মনসিংহ।
শ্রেষ্ঠ শিক্ষক (৪ বার), ময়মনসিংহ বিভাগ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

স্কুল পর্যায়ে অনলাইন ক্লাস কি আদৌ প্রয়োজন?

আপডেট সময় : ১১:৪৩:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

স্কুল পর্যায়ে অনলাইন ক্লাস কি আদৌ প্রয়োজন?
সামিউল ইসলাম :
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্কুল পর্যায়ে অনলাইন ক্লাস কতটা উপযোগী—এই প্রশ্নের উত্তরে সংক্ষেপে বলা যায়, বর্তমান বাস্তবতায় এটি খুব বেশি কার্যকর নয়। বিষয়টি কেবল প্রযুক্তির প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে না; বরং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক নানা দিক এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

প্রথমত, বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখনো ডিজিটাল সুবিধার বাইরে রয়েছে। গ্রামাঞ্চলসহ দেশের বহু অঞ্চলে প্রায় ৮০–৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীর নিজস্ব স্মার্টফোন বা উপযুক্ত ডিভাইস নেই। ফলে অনলাইন ক্লাস চালু করা হলে একটি বড় অংশ স্বাভাবিকভাবেই বঞ্চিত হবে। এতে শিক্ষায় বৈষম্য আরও বৃদ্ধি পাবে, যা একটি ন্যায়ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য মোটেও কাম্য নয়।

দ্বিতীয়ত, যেসব শিক্ষার্থীর হাতে মোবাইল আছে, তাদের ক্ষেত্রেও অনলাইন ক্লাসের সুফল সবসময় পাওয়া যায় না। বাস্তবে দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষামূলক কনটেন্টের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করে টিকটক, ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এর ফলে তারা ধীরে ধীরে মোবাইল আসক্ত হয়ে পড়ছে। রাত জেগে অনলাইন আড্ডা দেওয়া, গেম খেলা বা বিনোদনে সময় কাটানো তাদের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তৃতীয়ত, কিশোর-কিশোরীদের জন্য অনলাইন জগত নানা ঝুঁকিও তৈরি করছে। অনেক সময় তারা অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি শেয়ার করছে। এর ফলে ব্ল্যাকমেইল, হয়রানি বা আর্থিক প্রতারণার মতো ঘটনাও ঘটছে। কিছু ক্ষেত্রে মানসিক চাপে পড়ে তারা ভয়ংকর সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলছে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ প্রবণতা তুলনামূলক বেশি লক্ষ্য করা যায়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

চতুর্থত, করোনা মহামারির সময় আমরা অনলাইন শিক্ষার একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা পেয়েছি। তখন অনেক শিক্ষার্থীর হাতে মোবাইল দেওয়া হলেও তাদের একটি বড় অংশ সেটির সঠিক ব্যবহার করেনি। বরং তারা রাতজাগা অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, দিনের বেলায় ঘুমিয়ে থাকে এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাদের আচরণ ও জীবনযাপনে যে পরিবর্তন দেখা গেছে, তার প্রভাব এখনো অনেক ক্ষেত্রে রয়ে গেছে।

সবশেষে বলা যায়, শুধুমাত্র প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান দিয়ে শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়। বরং শিক্ষার্থীদের বয়স, মানসিকতা ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জরুরি। অনলাইন ক্লাসকে পুরোপুরি বাতিল না করে এটি সহায়ক পদ্ধতি হিসেবে সীমিতভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে সরাসরি শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষাই অধিক কার্যকর।

অতএব, সরকারকে এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকে।

সামিউল ইসলাম
সহকারী শিক্ষক
হালিমুন্নেছা চৌধুরানী মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ভালুকা, ময়মনসিংহ।
শ্রেষ্ঠ শিক্ষক (৪ বার), ময়মনসিংহ বিভাগ।